দেশে উৎপাদিত পাটকে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজিত পণ্যে রূপান্তরের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি রেশম, তাঁত ও পাটপণ্যসহ তৈরি পোশাকের বাইরের সম্ভাবনাময় খাতগুলোর বিকাশে সরকার কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পাট খাতের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং বিশ্ববাজারে এর বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে রপ্তানি বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর বিশেষ নজর দিয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে দেশের সোনালি আঁশ নামে পরিচিত এই খাতের উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন নতুন পণ্য তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু কাঁচা পাট রপ্তানি না করে, সমাপ্ত পণ্য বিশ্ববাজারে প্রেরণের মাধ্যমে অধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে পাট খাতসহ দেশের সম্ভাবনাময় রেশম ও তাঁত শিল্প চরম অবহেলা ও দুর্নীতির শিকার হয়েছিল। সেই সময় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ঐতিহ্যবাহী এই খাতগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছিল। এছাড়া, কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে পাটকলগুলো বন্ধ হয়ে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছিলেন।
বর্তমান প্রশাসন দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক স্বার্থে ও কৃষকদের নায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পাট চাষিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং প্রণোদনার ব্যবস্থা করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পাটপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলো যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সময়োপযোগী এই পদক্ষেপগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে পাট খাত আবারও একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক