ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে চরম উগ্রবাদ ও সংখ্যালঘু নিধনের ভয়াবহ চিত্র। নিছক গরু পাচারের সন্দেহের বশবর্তী হয়ে শিলিগুড়ির মাটিগাড়া-বাগডোগরা এলাকায় যে পৈশাচিক বর্বরতা চালানো হলো, তা আরও একবার ভারতের মাটিতে মুসলমানদের চরম নিরাপত্তাহীনতা ও করুণ পরিস্থিতিকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। গত কয়েক বছর ধরে দেশটিতে যেভাবে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর উগ্রবাদী দলগুলোর পাহারাদারির নামে নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, এই ঘটনা তারই একটি নির্মম ও ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ মাত্র।
স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা, গভীর রাতে মাটিগাড়া-বাগডোগরা সংলগ্ন এলাকায় একটি ছোট পিকআপ ভ্যানে করে পশু পরিবহন করছিলেন ওই দুই মুসলিম যুবক। কোনো রকম সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের বিরুদ্ধে গো-পাচারের উসকানি ছড়ায় স্থানীয় কিছু উগ্রপন্থী মানুষ। মুহূর্তের মধ্যে মাইকিং করে বা রটিয়ে দিয়ে বিশাল জনতা জড়ো করা হয়। এরপর আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে এবং পুড়িয়ে হত্যা করা হয় ওই দুই তরুণকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ঘাতকরা পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত করে এবং প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা চালায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং মব জাস্টিস বা জনরোষের নামে খুন ভারতের আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির দিকে ইঙ্গিত করে। সংখ্যালঘু মুসলিমদের লক্ষ্য করে এই ধরনের নৃশংসতা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার কাঠামোর ওপর এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পুরো শিলিগুড়ি এবং এর আশেপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছে। তবে আতঙ্কিত মুসলিম পরিবারগুলো এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং উগ্রবাদ দমনে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা দাবি করেছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক