রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্যায়-অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং এসবকে পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আবহমানকাল ধরে বাংলার মাটিতে সকল ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছে এবং এই ঐতিহ্যকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে।
রোববার ১৮ অক্টোবর শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকার ঐতিহাসিক রমনা কালী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি এই মন্তব্য করেন। মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও পূজা উদযাপিত কমিটির সদস্যরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তিনি মণ্ডপ ঘুরে দেখেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষসহ উপস্থিত সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
তিনি বলেন, আমরা খুব দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই যে, বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় দেশ। এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। অতীতে কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার দেশকে বিভাজনের রাজনীতিতে জর্জরিত করেছিল এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চক্রান্ত চালিয়েছিল। কিন্তু দেশের আপামর জনসাধারণ সেই ফ্যাসিবাদী চক্রান্ত সফল হতে দেয়নি। বিগত দিনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালালেও জনগণের সাহসিকতার কারণে তা প্রতিহত হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি আরও যোগ করেন যে, দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সর্বজনীন মিলনোৎসব। সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার এবং সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হলে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি দেশবাসীকে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান এবং আগামী দিনগুলোতেও দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন বলে গণমাধ্যমকে জানান সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক