ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে বলেছেন, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা সংশোধন আইন, ২০২৬-এর অপপ্রয়োগ বর্তমান সরকারের জন্য বুমেরাং হবে এবং শেষ পর্যন্ত এটি একটি আত্মঘাতী পদক্ষেপে পরিণত হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতেও এই ধরনের দমনমূলক আইনের অপব্যবহার করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে এবং ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে সাইবার আইনকে ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আইনের খসড়া তৈরির সময় অংশীজনদের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলেও বিভিন্ন কালাকানের মাধ্যমে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে তা কোনোভাবেই জনকল্যাণকর হবে না। বিশেষ করে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত যেকোনো আইনের কালো ধারাগুলো অবিলম্বে বাতিল করতে হবে, অন্যথায় এর নেতিবাচক রাজনৈতিক প্রভাব সরকারের ওপরই পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন তারেক রহমান ও অন্যান্য জাতীয় নেতাদের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে, তখন এ ধরনের কঠোর আইন জনগণের মধ্যে নতুন করে সংশয়ের জন্ম দিচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও সাইবার আইনের মতো নিবর্তনমূলক আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, আইনের শাসন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখতে হলে নিরাপত্তা আইনের নামে কোনো ধরনের দমনপীড়ন বরদাস্ত করা যাবে না। ভবিষ্যতে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে আইনের অপব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার ওপর তিনি জোর দেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক