ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার, এমন গুরুতর অভিযোগ করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি এক বিশেষ বৈঠকে গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও আচরণ বিশ্লেষণ করলে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে তাদের মধ্যে ক্ষমতা ছেড়ে চলে যাওয়ার এক ধরনের মানসিক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে একতরফা নির্বাচন আয়োজনের যে অপচেষ্টা অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার চালিয়েছিল, বর্তমান প্রশাসনের কিছু অতিউৎসাহী কর্মকর্তা সেই পথেই হাঁটার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য শীর্ষ নেতারা বলেন, দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার যেকোনো ষড়যন্ত্র দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে। বিশেষ করে ঠাকুরগাঁওয়ের আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে ধরনের প্রশাসনিক কারসাজির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে সরকার একটি সাজানো ফলাফল অর্জনের পাঁয়তারা করছে। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে হলে এই ধরনের হীন চক্রান্ত অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
এ সময় নেতারা আরও বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সব দেশপ্রেমিক শক্তিকে এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে শরিক হতে হবে। দেশের মানুষ আর কোনো ধরনের ভোটারবিহীন বা প্রহসনের নির্বাচন মেনে নেবে না। অবিলম্বে সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ণ করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। বৈঠকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনীতি এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি দ্রুত ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক