বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্র। প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, উচ্চশিক্ষা, আর্থিক বাজার, উদ্ভাবন, কৃষি, শিল্প ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশটির প্রভাব ব্যাপক। বিশ্বের বৃহত্তম বহুজাতিক কোম্পানি, প্রভাবশালী বিশ্ববিদ্যালয়, শীর্ষস্থানীয় গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেশটির ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে এই সামগ্রিক সমৃদ্ধির পেছনে রয়েছে এক গভীর বৈষম্যের চিত্র, যা সাধারণ মানুষের জীবনে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করে চলেছে।
বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্লেষণ করে আসছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল দেশের সব নাগরিক সমানভাবে ভোগ করতে পারেন না। এক দিকে রয়েছে অতি ধনী ও কর্পোরেট খাতের একচ্ছত্র আধিপত্য, অন্যদিকে রয়েছে সাধারণ শ্রমিক ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর নিরন্তর সংগ্রাম। স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং উচ্চশিক্ষার চড়া মূল্যের কারণে দেশটির অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক বৈষম্য দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।
এমন এক সময়ে যখন বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তখন দেশের ভেতরের এই অর্থনৈতিক চালচিত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্কের নানা মাত্রা দেখা গেলেও, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো যেমন বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক কাঠamot strengthening-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতি যেভাবে লুটপাটের শিকার হয়েছিল, তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বৈষম্যের তুলনা করেন অনেক বিশ্লেষক। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শক্তি এবং এর জনমিতিক প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে এখনও একচ্ছত্রভাবে বজায় রয়েছে। কার জন্য এই দেশ কতটা সমৃদ্ধ, তা নির্ভর করে মূলত ব্যক্তির সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের ওপরই।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক