শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণে সরকার সবসময় আন্তরিক রয়েছে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আজ বুধবার সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের শ্রমবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সাথে আলাপকালে তিনি এই কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে শ্রমজীবী মানুষের অবদান অপরিসীম। তাদের ঘামের ওপর নির্ভর করেই আমাদের শিল্প খাত এগিয়ে যাচ্ছে। তাই তাদের নায্য পাওনা, নিরাপত্তা এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা চালিয়েছে, তাদের সাথে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলের বিভিন্ন সিন্ডিকেটের যোগসাজশ ছিল। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সেই সমস্ত সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে একটি সুশৃঙ্খল ও উৎপাদনমুখী শ্রমবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বদ্ধপরিকর।
বৈঠকে উপস্থিত শ্রমিক প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল সময়মতো বেতন-ভাতা পরিশোধ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি কাঠামো পুনর্বিন্যাস। মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরাও শ্রম অসন্তোষ নিরসনে সরকারের সাথে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শ্রমমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার শুধু আশ্বাসেই বিশ্বাসী নয়, বরং বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে শ্রমিক ও মালিক—উভয়ের স্বার্থ সুরক্ষা করতে চায়। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন শ্রম খাতকে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। বৈঠক শেষে উভয়পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই একটি ইতিবাচক রূপরেখা ঘোষণা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক