মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের পর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতিতে না গিয়ে তৎকালীন সময়ে শেখ মুজিব সরকারের একটি নতজানু পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশকে সামগ্রিকভাবে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী এমপি।
সম্প্রতি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে যে আজ্ঞাবহতা এবং একপেশে মনোভাব বজায় রাখা হয়েছিল, তার চড়া মূল্য দিতে হয়েছে দেশের সাধারণ মানুষকে। একটি স্বাধীন দেশের কূটনৈতিক অবস্থান হওয়া উচিত সম্পূর্ণ আত্মমর্যাদাশীল এবং দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পরিচালিত।
ব্যারিস্টার আদিব চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতে বিভিন্ন সময়ে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে প্রতিবেশী বা বহির্বিশ্বের তেুাষণ নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। বিশেষ করে, ফ্যাসিবাদের দোসর স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে সেই নতজানু নীতির চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল, যা দেশের সার্বভৌমত্বকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কগুলোকে নতুন করে মূল্যায়ন করার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, অর্থনীতিবিদ এবং কূটনীতজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই একমত পোষণ করেন যে, কার্যকর এবং দৃঢ় পররাষ্ট্রনীতি ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোনো দেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। সভায় বক্তারা জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেন এবং ভবিষ্যতে কোনো রকম বৈদেশিক চাপের কাছে মাথা নত না করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক