বগুড়া শহরে এক শিক্ষার্থীর গাছের ডালের আঘাতে রায়হান ইসলাম নামের এক শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের এপিবিএন প্রধান ফটকের সামনে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে। আহত রায়হান ইসলাম বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী রিয়াদ ইসলাম কিরণ একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শিক্ষক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং এর প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে স্কুল ছুটির পর শিক্ষক রায়হান ইসলাম শহরের এপিবিএন সংলগ্ন এলাকা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই শিক্ষার্থী রিয়াদ ইসলাম কিরণের সঙ্গে কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ক্ষিপ্ত হয়ে রাস্তার পাশ থেকে একটি গাছের ডাল দিয়ে ওই শিক্ষকের ওপর চড়াও হয় এবং সজোরে আঘাত করে। এতে শিক্ষক রায়হান ইসলাম গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন ও অন্যান্য পথচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
শিক্ষকের ওপর এমন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার পরপরই বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠেন। তারা অপরাধী শিক্ষার্থীর দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষকরা জাতির মেরুদণ্ড এবং তাদের গায়ে হাত তোলার মতো ধৃষ্টতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করেছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে আটকের জন্য ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এবং অভিভাবকরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবক্ষয় রোধে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উভয়কেই আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অনভিপ্রেত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক