লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো বর্তমানে স্থানীয় মাদকসেবীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। সরকারের মহৎ উদ্দ্যেশ্যে তৈরি এই প্রকল্পটির প্রকৃত সুফল থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অনেক ঘরেই বরাদ্দ পাওয়া উপকারভোগীরা স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন না। এর ফলে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এই জনবহুল আবাসন প্রকল্পগুলো।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকল্পের অনেক ঘর দিনের বেলা তালাবদ্ধ থাকছে কিংবা রাতের আঁধারে সেখানে বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ছে। কোথাও কোথাও নিয়মবহির্ভূতভাবে মূল বরাদ্দপ্রাপ্তরা অন্যের কাছে এসব ঘর ভাড়া দিয়েছেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা গণমাধ্যমকে জানান, সন্ধ্যা নামলেই ফাঁকা ঘরগুলোতে বসে মাদকের আসর এবং জুয়ার আসর। এতে এলাকার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং সাধারণ পথচারী ও বাসিন্দারা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন স্থানে অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সরকারের আমলে গৃহীত উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সঠিক তদারকির অভাব লক্ষ্য করা গেছে। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দও এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর বর্তমান অবস্থা যাচাই করে প্রকৃত ভূমিহীনদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, যেসব ঘরে অবৈধভাবে বহিরাগতরা অবস্থান করছে বা যেগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত উদ্ধার করে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। রামগঞ্জ উপজেলার এই জনগুরুত্বপূর্ণ আবাসন প্রকল্পে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং মাদক নির্মূলে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় এলাকাবাসীর।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক