কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন হিসেবে পরিচিত কার্যকর নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের জুড়ী উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলামকে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার জুড়ী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় এমন একজন বিতর্কিত নেতার উপস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের আমলে সুবিধাভোগী এই ধরনের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী ফোরামে পুনর্বাসনের যেকোনো চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং জনরোষের কারণ হতে পারে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান যে, ওই সভায় উপস্থিত থাকার বিষয়ে সাফাই গেয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য। এমপির দাবি, সরকারি নির্দেশনা মেনেই এবং দাপ্তরিক প্রটোকল রক্ষা করেই সিরাজুল ইসলামকে কমিটির সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে এই ধরনের দাবির পরেও জনমনে ক্ষোভের আগুন কমছে না। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতা সরকারি কোনো কমিটিতে দাপ্তরিক আমন্ত্রণে অংশ নেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দলীয়করণের সংস্কৃতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণেই এখনো এমন অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটছে। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে যারা লুটপাট ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সাথে জড়িত ছিল, তাদের এ ধরনের প্রশাসনিক কমিটিতে রাখা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের প্রতি একধরনের উপহাস। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন এবং ভবিষ্যতে যেকোনো কমিটিতে বিতর্কিত ও নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ চিরতরে নিষিদ্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক