ভোটের মর্যাদা রক্ষা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এক ঐতিহাসিক লংমার্চ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, প্রশাসনের সকল স্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি কঠোরহাতে দমন।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরে সাংবাদিকদের জানান যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জনগণের ভোটাধিকারের মর্যাদা রক্ষা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বাধ্য করতেই এই লংমার্চের ডাক দেওয়া হয়েছে। নেতারা অভিযোগ করেন যে, ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরেও জনগণের কাঙ্ক্ষিত অধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষ আজ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সারের সংকটে কৃষকদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বিশিষ্ট নেতা আবদুল হালিম গণমাধ্যমকে জানান, জনগণের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে অর্জিত এই বিজয়কে কোনোভাবেই নস্যাৎ হতে দেওয়া যাবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও তাদের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনগুলোর গোপন চক্রান্ত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখে দিতে দেশের আপামর জনতাকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এই লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপেজলায় ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক