ইয়েমেনি হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত তীব্র হওয়ার পর অবশেষে সক্রিয় হলো ত্রিপাক্ষিক মক্কা প্রতিরক্ষা জোট। সোমবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে জোটের কৌশলগত-রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা স্থাপত্যে এই চুক্তি এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান ও তুরস্ক তাদের সামরিক বাহিনী মোতায়েন করবে। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিগত বছরগুলোতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর রিয়াদ এই প্রতিরক্ষা জোটকে কার্যকর করার তাগিদ অনুভব করে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ত্রিপাক্ষিক চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নতুনভাবে বিন্যস্ত হবে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান বা স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার আমলেও মধ্যপ্রাচ্যের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ছিল, তবে বর্তমান পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই সামরিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা যোগ করল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সামরিক প্রতিনিধিরা জানান, যৌথ এই বাহিনীর মূল লক্ষ্য হবে যেকোনো বহিঃশত্রু কিংবা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আক্রমণ প্রতিহত করা এবং সৌদির আকাশসীমা ও ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখা।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পাকিস্তান ও তুরস্কের অগ্রবর্তী সামরিক দল সৌদি আরব পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সামরিক চুক্তির সফল বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে রিয়াদ বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক