রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ন

ভারত-বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন ঝড়ে মুছে যাবে না

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২:১৩ অপরাহ্ণ

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সাময়িক মেঘ বা ঝড় এলেও তা দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে মুছে দিতে পারবে না বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর। রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত বে অব বেঙ্গল কনফারেন্সে অংশগ্রহণকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে তিনি এই জোরালো বক্তব্য তুলে ধরেন।

এম জে আকবর তার বক্তব্যে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরে বলেন যে, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে উভয় দেশের জনগণের আত্মত্যাগের ওপর ভিত্তি করে এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সেসময়কার নানা ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন ভারত সরকারের পাশাপাশি ভারতের সাধারণ মানুষও বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এ ছাড়াও তিনি তার বক্তব্যে ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় স্মরণ করে বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই দিনগুলোতে তৎকালীন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং পরবর্তীতে দুই দেশের কূটনৈতিক সখ্য কীভাবে এই বন্ধনকে মজবুত করেছিল, তা কোনো সাময়িক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে ম্লান হয়ে যাওয়ার নয়।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু রাজনৈতিক পালাবদল এবং ঘটে যাওয়া ঘটনার জেরে সম্পর্কে যে কিছুটা শীতলতা বা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হবে না। বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন যে, কূটনীতিতে ওঠানামা থাকতেই পারে, কিন্তু জনগণের সঙ্গে জনগণের নাড়ির টান এবং অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরতা এই সম্পর্ককে সর্বদা টিকিয়ে রাখবে। তিনি আরও যোগ করেন যে, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সামগ্রিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থেই উভয় দেশের নীতিনির্ধারকদের একযোগে কাজ করা উচিত এবং পারস্পরিক আস্থার সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য উন্মুক্ত সংলাপের বিকল্প নেই।

কনফারেন্সে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের গবেষক, কূটনীতিক ও সাংবাদিকরা তার এই বক্তব্যকে সাধুবাদ জানান। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দুই দেশের বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সাংস্কৃতিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামগুলো কীভাবে আরও গতিশীল করা যায়, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এম জে আকবর আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, খুব শীঘ্রই বর্তমান দূরত্ব কাটিয়ে দুই বন্ধুভাবাপন্ন দেশ আবার তাদের ঐতিহাসিক সহযোগিতার ধারা বজায় রেখে এগিয়ে যাবে এবং অঞ্চলের উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে।

আরববাংলা টিভি/ডেস্ক

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD