সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ছন্নছাড়া পারফরম্যান্স ও সাম্প্রতিক দল নির্বাচন নিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার ইমরুল কায়েস। জাতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে মর্মাহত হয়ে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন এবং ক্রিকেট বোর্ডের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বর্তমান সময়ে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ক্রিকেট অঙ্গনে অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসছে। ইতিপূর্বে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্রীড়াঙ্গনেও এর প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। একসময় ক্রীড়াঙ্গনকে নিজেদের দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছিল বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের দোসররা এবং তৎকালীন কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী-এমসিরা। একইভাবে কার্যকর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের ক্যাডার বাহিনী বিভিন্ন সময় ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোতে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্রিকেট বোর্ডের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং দেশের ক্রীড়াপ্রেমী সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নতুন ও অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সাবেক ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস মনে করেন, শুধুমাত্র মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং মাঠের বাইরের সঠিক পরিকল্পনা ও সুশাসনই পারে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে। দলের নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে ঘরোয়া ক্রিকেটের মানোন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই পেশাদারিত্বের অভাব দূর করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে হলে দলীয় কোন্দল এবং বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের রাজনৈতিক প্রভাব সম্পূর্ণভাবে দূর করতে হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয় দেশের খেলাধুলার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের আশা, সঠিক নেতৃত্ব এবং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আগামী দিনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য ছিনিয়ে আনবে এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক