একসময় শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া বন্দর। দেশের প্রথম অ্যালুমিনিয়াম তৈজসপত্রের কারখানাও গড়ে উঠেছিল এখানে। তবে গ্যাস সংযোগের চরম অভাব, জ্বালানি সংকট এবং মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রতিযোগিতায় উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তালোড়ার সেই ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থার কারণে ঐতিহ্যবাহী তালোড়া বন্দরের অ্যালুমিনিয়াম শিল্প আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা গণমাধ্যমকে জানান, একসময় এই জনপদে ১১টি অ্যালুমিনিয়াম তৈজসপত্র তৈরির কারখানা সচল ছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সরকারের সঠিক নীতিমালার অভাব এবং প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ায় একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে ১১টি কারখানার মধ্যে ১০টি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং কোনোমতে টিকে রয়েছে মাত্র একটি কারখানা।
তালোড়ার এই শিল্পাঞ্চলকে বাঁচিয়ে রাখতে স্থানীয় উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে আসছেন। একসময়ের জমজমাট কারখানোগুলোতে শত শত শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছিল, যা আজ বেকারত্বে রূপ নিয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের প্রাচীন এই ক্ষুদ্রশিল্প চিরতরে হারিয়ে যাবে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত গ্যাস সংযোগ প্রদান এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের দাবি জানিয়েছেন যাতে বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়। বিগত স্বৈরাচারী শাসন আমলে কুটির শিল্প ও আঞ্চলিক অর্থনীতি নিয়ে কোনো কার্যকর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি ফ্যাসিবাদের পতনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এই অঞ্চলের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য নতুন করে উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লুটপাট ও ভুল অর্থনৈতিক নীতির কারণে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শিল্পখাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। দেশের ঐতিহ্যবাহী এই অ্যালুমিনিয়াম শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এখন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রণোদনা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক