লাতিন আমেরিকায় চীনের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি। সম্প্রতি প্রকাশিত ১৭টি লাতিন আমেরিকান দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
চলতি ২০২৬ সালের লাতিনোব্যারোমেট্রো জরিপ অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালে এই বার্ষিক জরিপ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম লাতিন আমেরিকায় প্রভাবের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেল চীন। জরিপটিতে অংশ নেওয়া দেশগুলোর সাধারণ নাগরিক ও বিশ্লেষকদের মতামতের ভিত্তিতে এই চিত্র উঠে এসেছে। বিশ্ব ভূরাজনীতিতে এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিগত কয়েক দশক ধরে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে বেইজিং। এর ফলে ঐতিহ্যগতভাবে ওয়াশিংটনের প্রভাবাধীন এই অঞ্চলে এখন চীনের উপস্থিতি ও আধিপত্য আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লাতিন আমেরিকার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক নিষ্ক্রিয়তা এবং চীনের আগ্রাসী অর্থনৈতিক কূটনীতি এই পরিবর্তনের মূল কারণ। বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন কৌশলগত প্রকল্পে অর্থায়নের মাধ্যমে চীন এই অঞ্চলে নিজেদের একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যের এই পালাবদল আগামী দিনে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক