আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পরিচালনায় যেখানে মোট ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল, সেখানে আসন্ন নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫১ কোটি ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থাৎ, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত এই ব্যয় বৃদ্ধির হার শতকরা ২৪৩ ভাগ। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিগত নির্বাচনে বিবিধসহ মোট ৫৭টি খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট, মূল্যস্ফীতি এবং নির্বাচনের আনুষঙ্গিক ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এই বিশাল অংকের বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ রাখা জরুরি। তবে ব্যয়ের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সচেতন মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন পরিচালনার ব্যয় কমানোর জন্য কমিশনের আরও বেশি সাশ্রয়ী হওয়া প্রয়োজন ছিল। অপর দিকে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, বর্তমান বাজারদর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বাজেটের আকার বড় করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ছিল না।
কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিগত নির্বাচনগুলোতে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে বদ্ধপরিকর। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকারের এই বর্ধিত বাজেট সঠিকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে, যা দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক