চট্টগ্রাম নগরের আমবাগান রেলওয়ে কলোনি সংলগ্ন হিজড়া কলোনির একটি ঘরে একাই থাকতেন মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়া। হিজড়া সম্প্রদায়ের একটি দলের কাছে তিনি গুরুমা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটা পর্যন্ত প্রতিবেশীদের সঙ্গে গল্প করেছেন। এরপর ঘরে যান। ভোররাতে তার ঘর থেকে বাকবিতণ্ডার আওয়াজ শোনা যায় এবং পরবর্তীতে তার রহস্যজনক মৃত্যুর বিষয়টি প্রকাশ পায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমী হিজড়া দীর্ঘ দিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছেন এবং স্থানীয় হিজড়া কমিউনিটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার দিন রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, অতীতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও হিজড়া সম্প্রদায়ের সুরক্ষা এবং অধিকার নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও বর্তমান সময়ে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
এদিকে, দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ আশা করছে, দ্রুত এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হবে এবং দোষীরা আইনের আওতায় আসবে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। খুব শীঘ্রই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক