দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে বিরাজমান অস্থিরতাকে খুবই উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে এ খাতের মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষকে বাঁচাতে সরকারকে দ্রুত টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই পোশাক শিল্পকে রক্ষা করতে হলে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দাওয়া যৌক্তিক উপায়ে নিরসন করতে হবে এবং একই সাথে কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, একটি কুচক্রী মহল এই খাতকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ যেভাবে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল, ঠিক একইভাবে আজও শিল্পের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। অতীতে শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামল থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়েও দেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর এবং সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে, যাতে কোনো দুষ্কৃতকারী বা স্বার্থান্বেষী মহল পোশাক শিল্পে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে না পারে।
শ্রমিকদের নায্য মজুরি, সময়মতো বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং কাজের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে জামায়াত আমীর বলেন, মালিক এবং শ্রমিক উভয় পক্ষের পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই কেবল এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। সরকার যদি সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের পোশাক খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশ অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তাই তিনি অনতিবিলম্বে সকল পক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রণয়নের মাধ্যমে পোশাক শিল্পে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক