কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদ, মতামত বা সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে যে কারও দ্বিমত থাকার অধিকার রয়েছে। তবে এর প্রতিবাদ জানানোর অত্যন্ত সুন্দর, মার্জিত ও সভ্য পদ্ধতি রয়েছে সমাজে। কোনো পত্রিকা জনসমক্ষে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলা কিংবা অবমাননাকর আচরণের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো কোনোভাবেই সুস্থ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চর্চার অংশ হতে পারে না। সম্প্রতি দেশের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
নেতারা আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক ও মুক্ত পরিবেশে মতপ্রকাশের যেমন স্বাধীনতা রয়েছে, তেমনি গণমাধ্যমেরও নিজস্ব নীতিমালার ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশনের অধিকার রয়েছে। সংবাদে কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তার আইনি বা প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে কিংবা শালীন ভাষায় প্রতিবাদলিপি পাঠিয়ে সুরাহা করা সম্ভব। কিন্তু প্রকাশ্য রাজপথে পত্রিকা পুড়িয়ে ফেলা বা ছিঁড়ে ফেলার সংস্কৃতি সমাজে অসহিষ্ণুতা এবং উগ্রবাদকে উসকে দেয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর যখন দেশে একটি মুক্ত গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলছে, তখন এ ধরনের হঠকারী আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক সহনশীলতা এবং ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন। তাই সব পক্ষেরই আরও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত বলে মনে করেন জমিয়তের এই শীর্ষ আলেমরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক