ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে লক্ষ্য করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি সম্প্রতি এক জনসভায় অভিযোগ করেছেন যে, ভোট কারচুপি এবং নানা অনিয়মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তার মতে, নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করত এবং জ্ঞানেশ কুমার বর্তমান দায়িত্বে না থাকতেন, তবে নরেন্দ্র মোদী হয়তো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দেশটির বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে এই মন্তব্য নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন বিরোধী দল নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শাসক দলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা দাবি করেছে, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতি আস্থার অভাবের বহিঃপ্রকাশ।
উল্লেখ্য, প্রতিবেশী দেশের এই রাজনৈতিক বিতর্কের রেশ আমাদের দেশের রাজনীতিতেও বিভিন্ন সময় আলোচনার খোরাক জোগায়। বিশেষ করে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। পতিত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার আমলে অনুষ্ঠিত বিগত নির্বাচনগুলোতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা রয়েছে। অন্যদিকে, কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে যেভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল, তার সাথে বর্তমান ভারতীয় পরিস্থিতির তুলনা করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
এদিকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির মতো দলগুলো সবসময় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের মানুষের ভোটা অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে গেছেন। তাদের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা আজ দেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। জনগণের হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনতে এবং একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক