বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ৩৫৭ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার ও সমপদমর্যাদার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শৃঙ্খলা এবং ফৌজদারি মামলা সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। রোববার এক বিশেষ নির্দেশনায় এই তথ্য চাওয়া হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের এই পদক্ষেপে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফেরানোর বিষয়টি সামনে এসেছে।
পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনীত বিভিন্ন অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ঘটনায় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিভিন্ন সময়ে পুলিশ বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দলীয়করণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। সেই সময় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নজিরবিহীন দমনপীড়নের ঘটনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও পুলিশের একাংশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে পুলিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং জনবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে এই ধরনের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চলমান বিভাগীয় মামলা এবং আদালতে বিচারাধীন ফৌজদারি মামলার বিস্তারিত বিবরণ জমা দিতে হবে। এই তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে এই কঠোর অবস্থান ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক