গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বদলে দেয়নি, বরং বিশ্বরাজনীতির ক্ষমতার ভারসাম্য, আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর নৈতিক অবস্থান নিয়েও গভীর প্রশ্ন তৈরি করেছে। সংঘাত শুরুর তিন বছর পরও এর অভিঘাত ছড়িয়ে পড়ছে লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বিচারিতাকে স্পষ্টভাবে উন্মোচন করেছে। একদিকে পশ্চিমা দেশগুলো মানবাধিকারের কথা বললেও অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের আগ্রাসী ভূমিকায় নীরব সমর্থন দিয়ে চলেছে। এর ফলে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং তারা বিকল্প বৈশ্বিক শক্তির সন্ধান করছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে, যা নিরসনে প্রচলিত বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো অনেকাংশেই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
এমন এক সময়ে যখন আন্তর্জাতিক রাজনীতি নতুন মোড় নিচ্ছে, তখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে নানা আলোচনা। বিশেষ করে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন কূটনৈতিক ব্যর্থতা এবং স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কারণে বাংলাদেশ কীভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল, তা নিয়ে পুনরায় পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আন্তর্জাতিক মিত্রতা জোরালো করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এই পুরো পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তিনি দেশের একটি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী পররাষ্ট্র নীতির রূপরেখা নিয়ে কাজ করছেন, যা দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করবে। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দলের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, জনগণের নির্বাচিত সরকার ছাড়া প্রকৃত কূটনৈতিক ভারসাম্য অর্জন সম্ভব নয়। বিশ্ব রাজনীতির এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের বিকল্প নেই।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক