লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলভিত্তিক পার্লামেন্টে দীর্ঘ ১২ বছর পর নেতৃত্বের পরিবর্তন দেশটির ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নতুন স্পিকার হিসেবে আল-সালেহিন আবদুন নবী আল-আবিদির নির্বাচিত হওয়াকে পূর্বাঞ্চলের সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতারের প্রভাব আরো সংহত হওয়ার সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এই রাজনৈতিক পালাবদল দেশটির দীর্ঘমেয়াদী সংকটের অবসান ঘটাতে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার পর লিবিয়ায় একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন এবং জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি বারবার হোঁচট খাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান এই ক্ষমতার বিন্যাস দেশের পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যকার দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যা জাতীয় ঐক্য অর্জনের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে। বিশেষ করে দেশটিতে একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের যে পথ নকশা তৈরি করা হয়েছিল, নতুন এই নেতৃত্বের অধীনে তা বাস্তবায়িত হওয়া নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে, কিন্তু মাঠের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জটিলতার দিকে ইঙ্গিত করছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও কূটনৈতিক মহল লিবিয়ার এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পালাবদলের ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচনা সত্ত্বেও ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী পক্ষগুলোর অনড় অবস্থানের কারণে দেশটিতে গণতন্ত্রের চর্চা মুখ থুবড়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় লিবিয়ার সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ লাঘব এবং একটি শক্তিশালী সাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব পক্ষকে ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিকরা। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে সংঘাতের আশঙ্কাকেই আবার উসকে দিচ্ছে বলে মনে করছেন ভূরাজনীতিবিদরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক