প্রথম দিকের যান্ত্রিক টাইপরাইটারে অক্ষরগুলো বর্ণমালার ক্রমে সাজানো থাকলে দ্রুত টাইপ করার সময় কিছু যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ছিল। আধুনিক কী-বোর্ডে কোনো অক্ষরের বোতাম চাপলে সাধারণত একটি বৈদ্যুতিক সংকেত বা ডিজিটাল ইনপুট তৈরি হয়। কিন্তু পুরোনো যান্ত্রিক টাইপরাইটারে প্রতিটি অক্ষর মেটালের তৈরি ছোট হাত বা টাইপবারের সাথে যুক্ত থাকত। ব্যবহারকারী যখন কোনো বোতাম চাপতেন, তখন সেই টাইপবারটি কাগজের ওপর আঘাত করে কালি ফুটিয়ে তুলত।
যদি অক্ষরগুলো এ বি সি ডি ক্রম অনুযায়ী সাজানো থাকত, তবে দ্রুত টাইপ করার সময় পাশাপাশি থাকা অক্ষরগুলোর টাইপবারগুলো জট পাকিয়ে যেত বা আটকে যেত। এই যান্ত্রিক ত্রুটি এড়াতেই প্রকৌশলীরা বহুল ব্যবহৃত অক্ষরগুলোকে একে অপরের থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন, যার ফলে জন্ম নেয় কুয়ের্টি বা কিউডব্লিউইআরটিওয়াই লেআউট। প্রযুক্তির বিবর্তনে যান্ত্রিক টাইপরাইটার হারিয়ে গেলেও সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং অভ্যাসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আধুনিক কম্পিউটার ও স্মার্টফোনের ডিজিটাল কী-বোর্ডেও একই বিন্যাস আজ পর্যন্ত অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বর্তমান যুগের তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে এবং আধুনিক ডিজিটাল ডিভাইসের যুগে এই লেআউট মানুষের দৈনন্দিন টাইপিংয়ের গতি বাড়াতে সাহায্য করে আসছে। গবেষক ও প্রযুক্তিবিদরা বিভিন্ন সময়ে এই বিন্যাস পরিবর্তনের চেষ্টা করলেও মানুষের দীর্ঘদিনের অভ্যস্ততার কারণে কুয়ের্টি লেআউটই বিশ্বজুড়ে সর্বজনগ্রাহ্য মানদণ্ড হিসেবে টিকে রয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক