রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে কম্পিউটারভিত্তিক ইন্টারলকিং সিগন্যাল ব্যবস্থায় হুট করে দেখা দেওয়া যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এ সময় স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েন রেলযাত্রীরা। বাধ্য হয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে ম্যানুয়াল সিগন্যাল পদ্ধতিতে ট্রেন পরিচালনা করতে হয়, যার ফলে শিডিউল বিপর্যয় ঘটে এবং ঢাকামুখী ও ঢাকাছাড়ার ট্রেনগুলো দীর্ঘ সময় বিলম্বে চলাচল করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র সাংবাদিকদের জানান, ত্রুটির এই সময়ে মোট ১৮টি ট্রেন তাদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ছাড়তে পারেনি। ফলে কমলাপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের দীর্ঘ সময় ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে অফিসগামী এবং দূরপাল্লার যাত্রীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর দেশের বিভিন্ন খাতের মতো রেলওয়ে সেক্টরেও শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবি জোরালো হলেও এমন কারিগরি ত্রুটি যাত্রীদের ভোগান্তিকে বাড়িয়ে তুলেছে।
খবর পেয়ে রেলওয়ের প্রকৌশলী ও টেকনিক্যাল টিমের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টা চালিয়ে ত্রুটি সারাতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে সিগন্যাল ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে ট্রেন চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে একসাথে এতগুলো ট্রেন বিলম্বে ছাড়ায় সার্বিক শিডিউল পুনরুদ্ধার করতে রেল কর্তৃপক্ষকে বেশ হিমশিম খেতে হয়। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে রেলওয়ের সিগন্যাল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক