মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক মধ্যস্থতা সফল করতে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে সকল প্রকার হুমকি বন্ধ করার জন্য ইরানের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে কাতার। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
মঙ্গলবার এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে যে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে, তা নিরসনে সংলাপের কোনো বিকল্প নেই বলে কাতার সরকারের তরফ থেকে বারবার উল্লেখ করা হচ্ছে। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক আস্থার সংকট দূর করতে দোহা দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে আসছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে ধরনের মেরুকরণ লক্ষ্য করা গেছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে কাতার। বিশেষ করে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের আগ্রাসী মনোভাব পরিহার করা জরুরি। এর আগে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে কূটনীতির যে স্থবিরতা ছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান বিশ্ব কূটনীতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
কাতারের এই আহ্বানের ফলে তেহরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের বরফ গলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। কাতার জানিয়েছে, তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং যেকোনো মূল আঞ্চলিক সংঘাত এড়ানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক