মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আকস্মিক ঘোষণায় জানিয়েছেন যে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে বার্ষিক সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে ওয়াশিংটন। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনার জন্ম দেওয়া এই ঘোষণায় ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার বৈদেশিক নীতির বড় ধরনের সংস্কার করতে যাচ্ছে। তিনি জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে দীর্ঘ আলোচনার পরেই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা কাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি কূটনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। দশকের পর দশক ধরে ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তার যে ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, তা ২০২৬ সালের পর থেকে সম্পূর্ণ বদলে যাবে। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর এখন নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সময় এসেছে এবং মার্কিন করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই নীতিগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন যে, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই ওয়াশিংটন এই কঠোর কিন্তু বাস্তবসম্মত অবস্থান গ্রহণ করেছে।
এই ঘোষণার ফলে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফিলিস্তিনসহ আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মার্কিন এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, ইসরায়েলি নীতিনির্ধারক মহলে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ সম্পূর্ণ পাল্টে যাবে এবং এর প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। ট্রাম্পের এই বার্তা বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক