কলকাতার আলোচিত আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। এই ঘটনার পর তড়িঘড়ি করে মরদেহ সৎকারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সোমনাথ দেকে গ্রেপ্তার করেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে ওই পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেনি চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই নৃশংস ঘটনার পর হাসপাতালের অভ্যন্তরে ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং ময়নাতদন্ত ও সৎকারের প্রক্রিয়ায় চরম তাড়াহুড়ো করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এই তড়িঘড়ি প্রক্রিয়ার পেছনে সোমনাথ দে-র সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে।
ঘটনার দিন থেকেই পানিহাটি এলাকার রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সোমনাথ দে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় তার নির্দেশেই এই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে আদালতে হাজির করে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। আরজি করের এই ঘটনায় এর আগে হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এবার এক রাজনৈতিক নেতার গ্রেপ্তারে মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ভারতজুড়ে চিকিৎসকরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশাজীবীরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সত্য উদ্ঘাটনে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং জড়িত প্রতিটি ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক