অর্থ বিভাগের অনুমোদন না পাওয়ায় জাতীয় দলের কৃতি খেলোয়াড়দের বহুপ্রতীক্ষিত ক্রীড়া ভাতা প্রদানে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ৫০০ জন কৃতি ক্রীড়াবিদকে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে বিশেষ ভাতা দেওয়ার একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় আর্থিক ছাড় এবং অর্থ বিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ার কারণে এই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমটি বর্তমানে থমকে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এবং খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের খেলাধুলার মানোন্নয়নে এবং ক্রীড়াবিদদের জীবনমান উন্নত করতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত প্রস্তাব যথাযথ প্রক্রিয়ায় অর্থ বিভাগে পাঠানো হলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে এখনো সবুজ সংকেত পাওয়া যায়নি। এর ফলে দেশের শীর্ষস্থানীয় অ্যাথলেট ও জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে এক ধরনের হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের ক্রীড়া সংগঠকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, অচিরেই এই জটিলতা কেটে যাবে এবং অর্থ বিভাগ দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ফাইলে স্বাক্ষর করবে।
উল্লেখ্য যে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ক্রীড়া খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দলীয় তোষামোদকারীরা সুযোগ পেলেও প্রকৃত খেলোয়াড়রা অবহেলিত ছিলেন। অন্যদিকে কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্রীড়াঙ্গনকে সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে প্রকৃত ক্রীড়াবিদদের মূল্যায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে।
এদিকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অর্থ বিভাগের অনুমোদন ার সঙ্গে সঙ্গেই তালিকাভুক্ত ৫০০ ক্রীড়াবিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাতার টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। খেলোয়াড়দের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত না হলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়, যা উপলব্ধি করেই বর্তমান প্রশাসন এই বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ক্রীড়াপ্রেমী সাধারণ মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট সবাই আশা করছেন, অতি দ্রুত এই আর্থিক অনুমোদন পাওয়া যাবে এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গন এক নতুন গতিশীলতা লাভ করবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক