ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অব্যাহত রাখা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে কয়েক মাস ধরেই তীব্র মতবিরোধ চলছে। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এই অনৈক্য এখন প্রকাশ্য রূপ নিতে শুরু করেছে। এরআগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ব্যক্তিগত আলোচনায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব মার্কিন রাজনীতিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, যুদ্ধের কারণে রিপাবলিকান পার্টি আসন্ন কংগ্রেসে তাদের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে, যা দলের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক কৌশলের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউসের অন্দরে এই মতবিরোধ কেবল কৌশলগত নয়, বরং এটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাকেও প্রভাবিত করছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কট্টরপন্থী অংশ ইসরাইলের সঙ্গে মিলে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে মধ্যপন্থী ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত নেতারা যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মূল্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতি এবং জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতার কারণে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে, তা থেকে দলের জনপ্রিয়তা রক্ষায় নীতিনির্ধারকরা এখন নতুন করে ভাবছেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যদি এই অভ্যন্তরীণ সংকট দ্রুত সমাধান করতে না পারে, তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নীতিকেই নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকেও বিপন্ন করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মার্কিন নীতিনির্ধারক মহলের একটি বড় অংশ চায় কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে, যা ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য অধিকতর ফলপ্রসূ হবে। আগামী দিনগুলোতে এই বিরোধ কীভাবে প্রশমিত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক