গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যৌথ বাহিনীর ২৫ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠে নেমেছেন ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। গত কয়েকদিন ধরে চলমান এই শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ওই অঞ্চলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শ্রমিকদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন কারখানা ভাঙচুর ও মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান যে, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদান নিয়ে মালিকপক্ষের টালবাহানার কারণে এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বারবার দাবি জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা রাজপথে নেমে আসেন। শ্রমিক আন্দোলনের এই সুযোগে যাতে কোনো দুষ্কৃতকারী বা পতিত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার অনুসারী এবং কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কোনো ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সে বিষয়ে যৌথ বাহিনী অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ বাহিনী ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যৌথ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই সংকটের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের শান্ত থাকার এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক