নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোটাধিকার প্রয়োগ, নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দৃশ্যমান উদ্যোগের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। দেশের অধিকাংশ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলেই প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও প্রতিনিধিত্ব সুরক্ষায় পৃথক কোনো সেল বা নীতিমালা নেই, যা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায় হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রধান দলগুলো, যার মধ্যে বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিগুলো রয়েছে, তাদের গঠনতন্ত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত আসন বা সুনির্দিষ্ট অংশগ্রহণের সুযোগ রাখেনি। যদিও সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সংস্কারের কথা বলছে, তবুও এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিষয়টি এখনো উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলধারায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত না করলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে কেবল লোক দেখানো কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি বিগত দিনে কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও রাজনৈতিক অধিকারের বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত ছিল।
কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের অনুসারী ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ অতীতে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিয়ে বড় বড় কথা বললেও তাদের আমলে এই জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। একইভাবে, কার্যরত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগ কিংবা অন্যান্য সহযোগী সংগঠনগুলোও কখনো বাস্তবমুখী কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে তাদের নীতিমালায় পরিবর্তন এনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোটাধিকার সহজতর করা এবং দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা। অন্যথায় আগামী দিনের কোনো নির্বাচনই পুরোপুরি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে না বলে সতর্ক করেছেন তারা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক