স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পেছনে আত্মরক্ষা ও অস্ত্র উদ্ধারে গুলির একই পুরানো স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট বক্তারা। তারা বলেন, বাহিনীগুলো আত্মরক্ষা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমার্থক করে তুলেছে, যা আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। সাম্প্রতিক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন যে, ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে বিশেষ করে রক্ষীবাহিনীর সময়কাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন দমনপীড়নমূলক শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ মেয়াদে এই অপসংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছিল, যেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতো। বিগত বছরগুলোতে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা তাদের না পাওয়ার বেদনা নিয়ে আজও বিচার প্রার্থনা করে চলেছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাষ্ট্রযন্ত্রকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও জনবান্ধব করতে হলে অতীতে ঘটে যাওয়া প্রতিটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমেই এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। এ সময় বক্তারা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জোর দাবি জানান যেন অতীতের সকল গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয় এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য কঠোর আইনি কাঠামো প্রস্তুত করা হয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক