শীতের আগমনে সিরাজগঞ্জের চলনবিল অঞ্চলে বাড়ছে দেশি ও পরিযায়ী পাখির আনাগোনা। বিলের জলাশয়, ধানক্ষেত ও গাছপালায় আশ্রয় নিচ্ছে নানা প্রজাতির পাখি। শীতের এই সময়ে উত্তুরে হাওয়ার সাথে সাথে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি ছুটে আসে এই জনপদে। তাদের কিচিরমিচির শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো চলনবিল এলাকা। স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মনে আনন্দের বন্যা বয়ে গেলেও পাখি নিধনের আশঙ্কা কাটছে না।
বিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবার পাখি রক্ষায় এগিয়ে আসছেন স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা। বিভিন্ন এলাকায় যুবসমাজ ও পরিবেশকর্মীরা পাহারার ব্যবস্থা করেছেন। তবে এর মধ্যেও থেমে নেই এক শ্রেণির অসাধু চক্র। পাখি শিকারিরাও তৎপর হয়ে উঠেছেন। তারা অভিনব কায়দায় পাখি ধরতে বিভিন্ন স্থানে ফাঁদ পেতে রাখছেন। তাড়াশের উলিপুর গ্রামসহ চলনবিলের বিভিন্ন পয়েন্টে রাতের আঁধারে এবং ভোরে নির্বিচারে পাখি শিকারের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশবাদীদের মতে, চলনবিলের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পাখি শিকার রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং সচেতনতামূলক মাইকিং করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অতিথি পাখি শিকার আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও নজরদারির অভাবে অনেক সময় অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। সাধারণ মানুষ আশা করছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যাতে নির্বিঘ্নে এই অতিথি পাখিরা চলনবিলের বুকে নিরাপদে বসবাস করতে পারে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক