এক লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে উখিয়া উপজেলার বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গোলাম কিবরিয়াকে নিয়ে যখন সারা দেশে তোলপাড় চলছে, ঠিক সেই সংবেদনশীল দিনেই প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে উখিয়া থানায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে তাঁর হাতে নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দিয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশ প্রশাসনের ভেতরকার জবাবদিহিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার উখিয়া থানায় আয়োজিত এক অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে এই বিতর্কিত পুরস্কার বিতরণের ঘটনা ঘটে। যেখানে একজন অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক আত্মসাতের মতো এত বড় অভিযোগ বিচারাধীন বা তদন্তাধীন রয়েছে, সেখানে তাঁকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি না করে পুরস্কৃত করার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশের ভেতরে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সংস্কৃতি চরম আকার ধারণ করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সেই বিতর্কিত রীতিনীতি এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যেখানে মাদক কারবার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের, সেখানে এই ধরনের ঘটনায় অপরাধীরা আরও বেশি উৎসাহিত হতে পারে। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত এসআই গোলাম কিবরিয়া এবং তাঁকে পুরস্কৃতকারী পুলিশ সুপারের ভূমিকার একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক