অবিভক্ত বাংলার অবিসংবাদিত নেতা, কৃষকের পরম বন্ধু এবং অবিভক্ত বাংলার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ব্যক্তিত্বের অনুরাগী ছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বিজ্ঞানী প্রফুল্ল চন্দ্র রায় থেকে শুরু করে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে এই নেতার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, কলকাতায় তার ঐতিহাসিক বাসভবন আজ বেদখল হয়ে গেছে এবং ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছে তার স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শনগুলো।
ঐতিহাসিক এই বাসভবনটি রক্ষা করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের মতো এমন একজন মহান নেতার স্মৃতিচিহ্ন এভাবে অবহেলা ও দখল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দুই বাংলার ইতিহাসপ্রেমী মানুষের মনে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা সাপেক্ষে এই ঐতিহাসিক ভবনটি উদ্ধার এবং এর সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ধরনের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো কেবল ইট-পাথরের দেয়াল নয়, বরং এগুলো আমাদের অতীত ইতিহাসের অমূল্য দলিল। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এ বিষয়ে কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে কলকাতায় অবস্থিত শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের স্মৃতিবিজড়িত বাসভবনটি পুনরুদ্ধার করে সেখানে একটি স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপন করা উচিত বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ ও বিশিষ্টজনেরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক