অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কেনার পর অন্যের কাছে তা হস্তান্তর করে চড়া মূল্যে বিক্রি বা কালোবাজারি পুরোপুরি ঠেকানো বেশ কঠিন একটি বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমকে জানান, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে একটি চক্র এই অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, যা কঠোর নজরদারির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিবহন খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে রেলওয়ের সেবার মান বাড়াতে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অতীতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে রেল খাতে যে লুটপাট ও অব্যবস্থাপনা চলেছে, বর্তমান প্রশাসন তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তৎকালীন সময়ে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও সিন্ডিকেটগুলো রেলের টিকিট ব্যবস্থাকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
রেলমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ যাত্রীদের টিকিটের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের মাধ্যমে অনলাইন টিকিট ক্রয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে কিছু অসাধু চক্র নানা loopholes ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়াকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রেলওয়ের যৌথ নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে টিকিটের কালোবাজারি চিরতরে নির্মূল করতে আরও কঠোর ডিজিটাল সিকিউরিটি ও বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ করতে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক