বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, শুধু ফাঁকা স্লোগান দিয়ে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা ককখনোই সম্ভব নয়। এর জন্য বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ হিসেবে সমাজে প্রকৃত ন্যায়বিচার, সাম্য ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইসলামের শাশ্বত ন্যায়বিচার, সাম্য ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সৌন্দর্য সমাজে পুরোপুরি বাস্তবায়িত করলেই কেবল একটি সত্যিকারের বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের সাধারণ মানুষ চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। সেই দুঃসময়ে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ ও উলামায়ে কেরাম নানা নির্যাতনের শিকার হয়েও ইসলামের পক্ষে নিজেদের অবস্থান অবিচল রেখেছিলেন।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি-র মতো দলগুলোকে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা ও কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের অন্যায়-অচারের বিরুদ্ধে যেভাবে সাধারণ মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, ঠিক তেমনিভাবে আগামী দিনেও যেকোনো ধরনের আধিপত্যবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাওলানা মামুনুল হকের এই বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেশে একটি স্থিতিশীল, সাম্যবাদী ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ইসলামী মূল্যবোধের চর্চা এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার ওপর তিনি যে জোর দিয়েছেন, তা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের সর্বস্তরের জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে উলামায়ে কেরাম সহ সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক