দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুঝুঁকি দিন দিন উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আটটি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবুও উপসর্গগুলোর তীব্রতা এবং মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়ে তুলেছে।
একই ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন করে আরও এক হাজার ৬৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে জ্বর, সর্দি, কাশি এবং সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশের মতো হামের ধ্রুপদী লক্ষণ নিয়ে রোগীরা ভিড় জমাচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য মাঠপর্যায়ের চিকিৎসকদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এটি পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব। কিন্তু সচেতনতার অভাব এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছেদ পড়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসকরা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের মধ্যে হামের সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেই যেন দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা হয় এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া হয়। অন্যথায় এই রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে এবং নিউমোনিয়া বা এনসেফালাইটিসের মতো জটিলতা তৈরি করে রোগীর জীবন বিপন্ন করতে পারে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক