অনেকেই একসঙ্গে একাধিক ওষুধ সেবন করেন। অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রয়োজনীয় হলেও কখনো কখনো একটি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমানোর জন্য আরেকটি ওষুধ যোগ করা হয়। এভাবে একের পর এক ওষুধ যুক্ত হতে থাকলে অনিচ্ছাকৃতভাবে নতুন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে বহু বছর ধরেই পলিমার্কেসি বা একসঙ্গে একাধিক ওষুধ সেবনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বহুগুণ বেড়ে যায়, কারণ তাদের শরীর বিভিন্ন রাসায়নিকের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে থাকে।
কানাডার অন্টারিওতে সম্প্রতি পরিচালিত একটি চিকিৎসা গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীরা যখন নিয়মিত ব্যথানাশক বা পেইনকিলার সেবন করেন, তখন তাদের হৃদযন্ত্রের জটিলতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ড্রাগ বা এনএসএআইডি জাতীয় ওষুধগুলো রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং হার্টের কার্যক্ষমতার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের মতো প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়।
চিকিৎসকরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই মুড়ি-মুড়কির মতো ব্যথানাশক খেয়ে ফেলেন, যা তাদের অজান্তেই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি, বিকল্প উপায়ে ব্যথা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলো বিবেচনা করা দরকার, যেন হৃদযন্ত্র সুরক্ষিত থাকে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো যায়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক