ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকার ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। দখলমুক্ত করেছে বিস্তৃত বনভূমি। এতে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৫০০–এর বেশি পরিবার। এসব পরিবারের বেশিরভাগই বাঙালি মুসলিম। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি ও সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধারের জন্যই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিযোগ, কোনো ধরনের পুনর্বাসন ছাড়াই তাদের ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং ধর্মীয় উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত বেশ কিছু মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে।
এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে আসামের রাজনৈতিক অঙ্গন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের এই একপেশে ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে বলেছে যে, একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এর আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এমন উচ্ছেদ অভিযানের সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আসামের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই উচ্ছেদ অভিযান বেশ বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বাঙালি মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্ব ও ভূমির অধিকার নিয়ে যে সংকট চলছে, তা এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আরও ঘনীভূত হলো। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে এবং শীতের মধ্যে চরম মানবিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য দাবি করেছে যে আদালতের নির্দেশনা মেনেই এই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক