গাজীপুরের পূবাইলের হায়দরাবাদ এলাকায় রেললাইনের পাশে ডেকে নিয়ে সাবেক স্ত্রীকে গলা কেটে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার মাত্র বিশ দিন পূর্বে তাদের আনুষ্ঠানিক তালাক সম্পন্ন হয়েছিল, যার ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার দিন অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম তার সাবেক স্ত্রীকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হায়দরাবাদ এলাকার রেললাইনের পাশে ফাঁকা স্থানে ডেকে নেন। সেখানে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে রফিকুল তার সঙ্গে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাবেক স্ত্রীর গলা কেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি কুপিয়ে নিশ্চিত মৃত্যু নিশ্চিত করেন। তার আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ঘেরাও করে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে। খবর পেয়ে পূবাইল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং এ ধরনের নৃশংস অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পৈশাচিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের মূল রহস্য উদঘাটনে এবং অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে নিবিড় তদন্ত শুরু হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক