ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাজপথে নেমেছেন তরুণেরা। ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি ও আলবেনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে এই গণবিক্ষোভ। কোথাও শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থা ও শিক্ষকের সংকট, কোথাও বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবার কোথাও দুর্নীতি ও কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশের রাজপথে তরুণ সমাজের এই ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ইউরোপীয় রাজনীতির জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে জীবনযাত্রার মান নিম্নমুখী হওয়া এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় তারা সংগঠিত হতে শুরু করেছেন।
ফ্রান্সে শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশা এবং শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে রাস্তায় নেমেছেন। অন্যদিকে, স্পেন ও পর্তুগালে আবাসন সংকট এবং মাত্রাতিরিক্ত বাড়িভাড়ার কারণে তরুণদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ইতালিতে কর্মসংস্থানের অভাব এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন যুবসমাজ। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের কারণেই আজকের এই বিস্ফোরণ। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে এবং তরুণদের দাবিগুলো মেনে নিতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কথা ভাবছে।
এই আন্দোলন শুধু কয়েকটি দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, বরং পুরো ইউরোপজুড়ে এক গভীর সামাজিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের এই দাবির মুখে বিভিন্ন দেশের সরকার এখন নতুন করে বাজেট বরাদ্দ এবং শিক্ষানীত সংস্কারের বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে এই বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনেও ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক