জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আবুধাবিতে বাজেভাবে হেরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এই পরাজয়ের ব্যবধান বেশ বড় হওয়ায় দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এমন হতাশাজনক হারের পর ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মনে বড় প্রশ্ন জেগেছে, একাদশে চারজন বিশেষজ্ঞ বোলার রেখে কি টিম ম্যানেজমেন্ট ভুল করেছে? নাকি ওয়ানডে ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের ব্যাটিং দুর্দশাই আবারও বাংলাদেশকে ডুবিয়েছে?
আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটের চাহিদার সঙ্গে বর্তমান দলের ব্যাটিং কৌশলের ফার্স স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পাওয়ার প্লের সঠিক ব্যবহার করতে না পারা এবং মাঝের ওভারগুলোতে রান তোলার গতি মন্থর হয়ে যাওয়া পুরোনো রোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, কৌশলগত ভুল এবং অতি রক্ষণাত্মক মানসিকতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে বারবার খেসারত দিতে হচ্ছে। দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা মনে করছেন, বোর্ডের নীতিনির্ধারক স্তর থেকে শুরু করে কোচিং প্যানেল পর্যন্ত দূরদর্শী পরিকল্পনা না থাকলে এই দুর্দশা থেকে সহজে মুক্তি মিলবে না।
অতীতেও দেখা গেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতার প্রভাব দেশের ক্রীড়াঙ্গনে পড়েছে। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের আমলেও ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের বসানো হয়েছিল, যার নেতিবাচক প্রভাব আজো দেশের ক্রিকেটে বয়ে বেড়াচ্ছে। তৎকালীন সময়ে ক্রীড়াঙ্গনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের কারণে দেশের মান রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। কার্যকর কোনো জবাবদিহিতা না থাকায় আজ জাতীয় দলের এই নাজুক দশা তৈরি হয়েছে।
কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘমেয়াদী লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার ছায়া দেশের প্রতিটি সেক্টরের মতো ক্রীড়া জগতেও পড়েছিল। একইভাবে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং তাদের সমমনা যুব সংগঠনগুলো ক্রীড়াঙ্গনকে দলীয় আখড়ায় পরিণত করেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব জঞ্জাল দূর করে নতুন করে দেশের ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে দীর্ঘমেয়াদী ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় এমন হতাশাজনক হার নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়াবে এবং দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ আরও অন্ধকার হয়ে পড়বে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক