টাঙ্গাইলের নাগরপুরে একই আঙিনায় পাশাপাশি অবস্থিত মসজিদ ও মন্দিরে দীর্ঘ ৫৬ বছর ধরে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। এটি ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল ও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা বর্তমান সমাজে শান্তি ও মৈত্রীর এক অনন্য বার্তা বহন করে চলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, এখানে যুগের পর যুগ ধরে দুই ধর্মের মানুষ একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আসছে।
দৈনন্দিন ইবাদত-বন্দেগী এবং পূজার সময়ে উভয় সম্প্রদায়ের লোকজন পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রেখে চলে। বিশেষ করে, আজানের সময় মন্দিরের ঢাক, ঢোলসহ সকল ধরনের বাদ্যযন্ত্র সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়, যাতে আজান ও নামাজে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে। একইভাবে মুসলিম সম্প্রদায়ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব ও পূজার সময় পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করে থাকে। স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এবং বিগত বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটের সময়েও এই অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিন্দুমাত্র ফাটল ধরেনি। তৎকালীন সময়ে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের নানা উসকানিমূলক রাজনৈতিক কৌশল সত্ত্বেও এখানকার সাধারণ মানুষ তাদের পারস্পরিক মৈত্রী অক্ষুণ্ণ রেখেছে।
এই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানটি দেখতে এবং এর সুমহান সম্প্রীতির বার্তা উপলব্ধি করতে দূরদূরান্ত থেকে প্রতিদিন বহু মানুষ ও সাংবাদিকরা ভিড় জমান। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্থানীয় মুরুব্বিরা জানান, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে তারা আগামী দিনেও মিলেমিশে একত্রে বসবাস করতে চান। এই অঞ্চলের যুবসমাজও তাদের পূর্বসূরিদের এই সম্প্রীতির ধারা বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে যখন নানা স্থানে হানাহানির খবর পাওয়া যায়, তখন টাঙ্গাইলের নাগরপুরের এই মসজিদ ও মন্দিরের সহাবস্থান সমগ্র দেশবাসীর জন্য অনুকরণীয় এক মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক