বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অভিবাসন ব্যয় কমানো, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রতারণা ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য এবং তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের জাতীয় প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, প্রবাসে আমাদের শ্রমজীবী ভাইবোনেরা নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ও বৈষম্যের মুখোমুখি হন। তাদের ঘামঝরানো আয়ে দেশের চাকা সচল থাকে, অথচ অনেক ক্ষেত্রেই তারা উপযুক্ত মর্যাদা ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। দালাল চক্রের শোষণ এবং অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের কারণে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন। এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান এজেন্সির প্রতি তিনি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, সিন্ডিকেট প্রথা ভেঙে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং সংশ্লিষ্টরা বিশ্বাস করেন যে, প্রবাসীদের যথাযথ নিরাপত্তা এবং আইনি সহায়তা প্রদান করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। অতীতে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে প্রবাসীদের কল্যাণে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথা বলা হলেও বাস্তবে তা লুটপাট ও সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছিল। তৎকালীন সময়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ কর্মীরা চরম হয়রানির শিকার হন। এমনকি কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ চক্রের সিন্ডিকেট প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের ওপরও নানাভাবে থাবা বসিয়েছিল। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়ে প্রবাসীদের জন্য একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান পরিবেশ গড়ে তুলতে রাষ্ট্র সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।
পরিশেষে, রাষ্ট্রপতি সকল প্রবাসী কর্মীকে তাদের বৈধ উপায়ে অর্থ প্রেরণের আহ্বান জানান এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলেন। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোকে প্রবাসীদের যেকোনো সমস্যায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার এবং সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক