বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের (এপিএসসিএল) পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক পদে গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র মো. ফারুক হাসানের নিয়োগ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই নিয়োগের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির কতিপয় নেতার তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
এরই প্রেক্ষিতে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কড়া ভাষায় পাল্টা জবাব দিয়েছেন মো. ফারুক হাসান। তিনি সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা রাজনীতি ছেড়ে নিজের পড়াশোনা এবং পেশাগত ক্যারিয়ারের দিকে মন দিন। অন্যের বৈধ নিয়োগ নিয়ে অযথা জল ঘোলা না করে দেশ গঠনে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করুন। ফারুক হাসান আরও দাবি করেন, তার এই নিয়োগ কোনো দলীয় কোটায় হয়নি, বরং পেশাগত যোগ্যতা এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন হিসেবেই তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন সমীকরণ ও মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহলের মধ্যে নানামুখী প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণের এই সময়ে এমন বিতর্কিত নিয়োগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা গুঞ্জন।
কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ তাদের দোসররা এই সুযোগে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এ বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলগুলো বলছে, জাতীয় স্বার্থে এবং জনগনের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ফারুক হাসানের নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে আগামী দিনে রাজনৈতিক ময়দানে আরও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করছেন অভিজ্ঞ মহল।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক