সরকার নির্ধারিত নীতিমালাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় সারের ডিলার নিয়োগের প্রাথমিক তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এই ডিলার নিয়োগের তালিকা ঘিরে কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন, নগ্ন দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইনবহির্ভূতভাবে প্রভাব খাটানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলের বিরুদ্ধে। স্থানীয় কৃষকদের অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত এই ডিলারশিপের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এমন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে হতবাক সাধারণ চাষিরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, তাড়াশ উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগের জন্য যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, তাতে স্বচ্ছতার লেশমাত্র নেই। অভিযোগ রয়েছে, এই তালিকায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতা, নেতাদের নিজেদের ছেলে, ভাই, ভাতিজা, স্ত্রী এবং অতি ঘনিষ্ট ও আস্থাভাজন ব্যক্তিদের নাম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সার ব্যবসার সাথে যুক্ত এবং প্রকৃত ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা এই তালিকা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়েছেন। এর পেছনে বড় অংকের আর্থিক লেনদেন কাজ করেছে বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা গণমাধ্যমকে জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলের মতো এখনো কিছু সিন্ডিকেট নানা অনিয়মের মাধ্যমে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অথচ এই প্রক্রিয়ার সাথে যদি কোনো সুবিধাবাদী চক্র জড়িত থাকে, তবে তা কঠোরহস্তে দমন করা উচিত। বিশেষ করে দেশের এই ক্রান্তিলাগ্নে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করে দলীয়করণ বা স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সার ডিলার নিয়োগ করা হলে তা কৃষিখাতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাড়াশ উপজেলার সাধারণ কৃষক ও বঞ্চিত ব্যবসায়ীরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক